চাবাগানে এসে খানিকটা তরতাজা হওয়ার ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল বাঙালির অন্যতম সেরা আইকন সৌমিত্র চ্যাটার্জির

দেবজ্যোতি চ্যাটার্জি Nov 19, 2020 - Thursday মালবাজার 296


ঘন সবুজের মাঝে খানিকটা তরতাজা হওয়ার ইচ্ছা ছিল বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সেরা আইকন সৌমিত্র চ্যাটার্জির। ইচ্ছা ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসবেন ডুয়ার্সের মেটেলি ব্লকের ইনডং চাবাগানে। কয়েকটি দিন কাটিয়ে যাবেন। সেই ইচ্ছা অপুর্নই থেকে গেল। তার প্রয়ানে এই চাবাগানের মালিক থেকে শ্রমিক সবাই ভারাক্রান্ত। এমন কথাটাই জানালেন ইনডং চাবাগানের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ম্যানেজার রজত দেব।

চাবাগানের থেকে জানা গেল,শেষবার গত তিন বছর আগে ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর এই চা বাগানে পা রেখেছিলেন সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তার হাত দিয়ে উদ্বোধন হয়েছিল শ্রমিকদের বিনোদন কেন্দ্র স্বরুপ একটি ক্লাবের। চাবাগানে বিকল্প কর্মসংস্থান ডেয়ারি প্রকল্পের পথ চলা শুরু হয়েছিল তার হাত দিয়ে। সেই অনুষ্ঠানে তিনি উদাত্ত কন্ঠে আবৃত্তি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ " কবিতা। চাবাগানের শ্রমিক, ম্যানেজার মালিক আপ্লুত হয়ে ছিলেন। অভিনন্দিত করেছিল সবাই। তাই তার প্রয়ানে সবাই ভারাক্রান্ত ও নষ্টালজিক।

এই চাবাগানের ডাইরেক্টার তথা মালিক হরিরাম গর্গের সাথে প্রয়াত কিম্বদন্তী অভিনেতার বহুদিনের বিশেষ সখ্যতা ছিল। বন্ধুর মতোই ছিল। দুইজনই ক্যালকাটা ক্লাবের মেম্বার। এমনটাই জানান ম্যানেজার রজত দেব।

চাবাগানের ম্যানেজার রজত বাবু আরও জানান, মাত্র দু মাস আগে আমাদের ডাইরেক্টর হরিরাম গর্গ ফোনে জানিয়েছিলেন, সৌমিত্র বাবু ক্লান্তি অনুভব করছেন। সবুজের মাঝে খানিকটা তরতাজা হওয়ার জন্য চাবাগানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তার আসার ইচ্ছা ছিল। ৪-৫ দিন থাকবেন বলেছিলেন । কিন্তু, সে ইচ্ছা আর পুর্ন হলো না। আমরা সবাই ভারাক্রান্ত।

ডাইরেক্টর নিজেও অত্যন্ত ভারাক্রান্ত।আমাদের সবার সেইসব দিনের কথা মনে পড়ছে।

শুধু এই চাবাগান নয়, ডুয়ার্সে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন এলাকায় পদচারণ করেছেন বাংলা অন্যতম সেরা আইকন সৌমিত চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায়ের এই মানসপুত্রের প্রয়ানে অনেকেই ভারাক্রান্ত ও নষ্টালজিক।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMJOK

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK