সমস্যা মেটেনি ডানকান গোষ্ঠীর চাবাগানের শ্রমিকদের, চাইছে বিকল্প ব্যবস্থা।

দেবজ্যোতি চ্যাটার্জী Apr 28, 2019 - Sunday মালবাজার 564


বহু বৈঠক হয়েছে। একাধিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তবু ডুয়ার্সের ডানকান গোষ্ঠীর চাবাগানের সমস্যা মেটেনি। একাধিক বার ভোট এসেছে। বহু নেতা সমস্যা মোচনের আস্বাস দিয়ে গেছে। সয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বীরপাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় ডানকান গোষ্ঠীর চাবাগান গুলিকে অধিগ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিছুই কার্যকর হয়নি। গত ৫ বছরে ছন্দে ফেরনি ডানকান গোষ্ঠীর ৭ টি চাবাগানে। এর দুর্ভোগ ভুগছে কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। কখনো কিলকোটে মজুরি না পেয়ে বিক্ষোভ। আবার কখনো বাগরাকোটে মজুরি না পেয়ে পথ অবরোধ হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই এই খবর সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে। শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছে অথচ তাদের পাওনা বকেয়াই থেকে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে?  এর উত্তর খোঁজ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইছে ডুয়ার্সের মানুষ। আর শ্রমিকরা চাইছে অন্য মালিকানা। ডুয়ার্সে ডানকান গোষ্ঠীর ইতিহাস নিয়ে কথা বলা জরুরি। 



ডুয়ার্সে চা শিল্পের পত্তনদারদের মধ্য অন্যতম এই ডানকান গোষ্ঠী। ডুয়ার্স, তরাই, দার্জিলিং ও আসামে বহু চাবাগানের পত্তন করেছিল এই গোস্টি। এক সময় এই গোস্টির চাবাগান গুলি ছিল অত্যন্ত সম্বৃদ্ধ। বছর দশ আগেও এই সমস্যা দেখা যায়নি। ২০১৪ সাল থেকে সমস্যা শুরু। সেই সমস্যার জাল থেকে আজও বের হয় নি। ডুয়ার্সের মাল মহকুমা এলাকায় ডানকান গোষ্ঠীর তিনটি চাবাগান রয়েছে। মাল ব্লকে বাগরাকোট, মেটেলি ব্লকে কিলকোট ও নাগেশ্বরী। এই তিন চাবাগান দেখলে এই গোস্টির অন্যান্য চাবাগানের অবস্থা বোঝা যাবে। বাগারাকোট চাবাগান বেশ বড় বাগান। দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত। ২০১৫ সালে থেকে শ্রমিকদের মজুরী বকেয়া হতে থাকে। বাড়তে থাকে শ্রমিক বিক্ষোভ। হঠাৎ করে ম্যানেজাররা বাগান ছেরে চলে যায়। মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা অভাবে পড়ে। অনেকে খাদ্যাভাবে বনের লতাগুল্ম খেয়ে বাচার রাস্তা খোজে। সেই সময় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে  বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তারপর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে র‍্যাশান, চিকিৎসা সহ অন্যান্য পরিসেবা দেওয়া হয়। তারপর একাধিক বৈঠকের পর চাবাগানে ম্যানেজাররা ফিরে আসে। কিন্তু, আজও স্বাভাবিক হয় নি এই চাবাগান। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ ছেত্রি জানান , বর্তমানে কারখানা বন্ধ। পাতা তুলে এদিক ওদিক বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু, শ্রমিকদের মজুরী সহ অন্যান্য পাওনা নিয়মিত নয়। 



মেটেলি ব্লকের কিলকোট চাবাগানে শনিবার বকেয়া মজুরী না পেয়ে বিক্ষোভ দেখায়। টেনেহিচরে বাগান থেকে বার করে দেয়। ম্যানেজার বাগান ছেরে চলে যায়। চাবাগানের শ্রমিক নেতা প্রকাশ নায়েক বলেন, এবার বৃষ্টি থাকায় পাতা ভালো হয়েছে। কারখানা বন্ধ থাকায় কাচা পাতা এই কোম্পানির অন্য বাগানে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু, এদিক ওদিক পাতা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২২ থেকে ২৫ হাজার কেজি পাতা উঠছে। পাতা বাইরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছে না। চাবাগানে যা চলছে মনে হয় মালিকরা জানেনা। কোনো দালাল চক্র বাগান চালাচ্ছে। আমরা এই মালিক চাইনা। যারা বাগান ভালো করে চালাবে এমন মালিক চাই। 



এই ব্লকের আর বাগান নাগেশ্বরী। সেখানে কারখানা চালু থাকলেও বাগানের অবস্থা ভালো না। শ্রমিকরা জানায়, বাগান চালু থাকলেও মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা আগের মতো নিয়মিত ও স্বাভাবিক হয় নি। 



ডানকান গোষ্ঠীর বাকি বাগান গুলির অবস্থা সামান্য এদিকওদিক। শ্রমিকরা চাইছে এই মালিকানা গোস্টি বাগান স্বাভাবিক করতে পরবে না। এমন কোন মালিক পক্ষ আসুক যারা বাগানগুলি ঠিক মতো চালাবে। তাতেই বাচবে  কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMJOK

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK