২৮ বছরের শয্যাশায়ী মেয়েকে নিয়ে অসহায় বিধবা মা

শুভজিৎ দেবনাথ Feb 01, 2021 - Monday ডুয়ার্স 478


জন্মের পর সবকিছুই ঠিক ঠাক মতোই চলছিলো। মা ও বাবার কোলে আস্তে আস্তে বড়ো হয়ে দিব্যি গুটি গুটি পায়ে চলাফেরা করতে শিখেছিলোসে।পরিষ্কার মা বাবা ডাকতেও শিখেছিল গয়েরকাটার মোরাঘাট রেঞ্জ অফিসে কর্মরত রত্না বাসফরের কন্যা কল্পনা বাসফোর।চার বছরে পা দিতেই এক অজানা জ্বরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে কল্পনা।এরপর থেকে কথা বলা ভুলে যায়।আজও সেরে উঠেনি, মেলেনি কোনরকম সরকারি সাহায্য । তাই বর্তমানে শয্যাশায়ী মেয়েকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে মা। বন দপ্তরের কাজে যুক্ত, তাই জলপাইগুড়ি জেলার মোরাঘাট রেঞ্জ অফিসের আবাসনে থাকেন রত্মা বাঁসফোর । তার মেয়ে কল্পনা বাসফোরের বর্তমান বয়স ২৮ । চিকিৎসার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে থাকেন মা রত্মা বাঁসফোর। কিন্তু খালি হাতেই ফিরতে হয় তাকে। মাঝে স্বামীকে হারিয়ে আরো বিপদে পড়ে যান তিনি। তবে মেয়ের সেবা যত্মে কোনো খামতি পড়েনি। বনদপ্তরের একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে কাজ করেন রত্মাদেবী । তাই যোগাযোগের সূত্রে তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য সর্বত্র গিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতে পারেননি।


এদিকে রাজ্য সরকারের তরফে দিদিকে বলো, দুয়ারে সরকার, স্বাস্থ্য সাথী সহ একাধিক প্রকল্প চলছে। এমনকি এইসব প্রকল্প থেকে অনেকে সুবিধা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে ঢালাও প্রচার চলছে। কিন্তু তার কোনোটিই কাজে আসেনি রত্মাদেবীর।



ঠিক এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তবে দিদিকে বলো, দুয়ারে সরকার, স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধাগুলো কাদের জন্য!




রত্মাদেবী জানালেন, আমি বনদপ্তরে কাজ করি। তাই নাকি স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা পাবোনা। কিন্তু বনকর্মী হিসাবে আমি আর কত টাকা পাই! তাই কাজ শেষে ঘরে ফিরতেই মেয়েকে দেখে হ্নদয় ভারাক্রান্ত হয়ে যায় রত্মাদেবীর" । কান্নাভেজা গলায় তিনি বলেন, মেয়েটা সারা দিনরাত বিছানায় শুয়ে কাটায়। ওরজন্য কিছুই করতে পারলাম না। প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট টাও টাকা দিয়ে বানিয়েছি।



এদিকে গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা হলেও রত্না দেবীর পাশে দাঁড়ায়নি এলাকার কোনো জনপ্রতিনিধি।তাই মেয়েক নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে বিধবা মহিলার।



এই বিষয়ে ধূপগুড়ির বিডিও শঙ্খদ্বীপ রায়ের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমন কি হোয়াটস অ্যাপে এসএমএস করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি এসএমএস সীন করেননি, তাই তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





এরপর জলপাইগুড়ি জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ,প্রতিবন্ধী সংশাপত্র থাকলে যাতে মানবিক পেনশনটা পান সেই বিষয়টি তিনি দেখবেন।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMJOK

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
HS01
HS02