স্বাভাবিকের চাইতে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। প্রবল বৃষ্টিতে কাহিল ডুয়ার্স

সহ সম্পাদক ঝিলাম দেব Jun 27, 2020 - Saturday নিউজ রুম 472


ছাতা যেন কিছুতেই চাইছে না পিছু ছাড়তে। মাত্র দিন পনেরো আগেও প্রখর সূর্যতাপ আর অস্বস্তিকর গরমে হাঁপিয়ে উঠেছিল ডুয়ার্স। বৃষ্টির প্রর্থনা করছিল প্রত্যেকেই। তখনও বাইরে বেরতে হলে ছাতা মাথায় করেই বের হতে হত। গত ক'দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে আবারও মাথায় উঠেছে ছাতা। যখন তখন কালো মেঘে ঢাকছে আকাশ, দিনের বেলায় অন্ধকার হয়ে আসছে চারিদিক নামছে মুষলধারে বৃষ্টি। অতি বৃষ্টিপাতের ফলে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। জলে ভরে গেছে নদী-নালা খাল-বিল। একটু বৃষ্টি কমতেই দিনের বেলাতেও শোনা যাচ্ছে ব্যাঙের গ্যাঙর গ্যাঙর ডাক। চাষের জমিতে জল জমায় সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। বৃষ্টিতে করুন পরিস্থিতি রাস্তাঘাটের। একদিকে গ্রামের কাঁচা রাস্তায় কাদার জন্য হয়ে উঠছে চলাচলের অযোগ্য। সঠিক জল নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন রাস্তায় জমে আছে জল। এই সব রাস্তাও পথ চলতি মানুষের জন্য চরম যন্ত্রণার হয়ে উঠছে। জমা জলের ওপর দিয়ে গাড়ি চলার সময় ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে পায়ে হাটা মানুষ থেকে সাইকেল আরোহীদের।


অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গা পরিনত হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। ময়নাগুড়ি হয়ে জলপাইগুড়ি যাবার সদ্যনির্মিত মহাসড়ক অতি বৃষ্টির ভার সইতে না পারায় বিভিন্ন জায়গায় ভাঙতে শুরু করেছে। রাস্তার ওপর থেকে দেখে মনে হতেই পারে ঝা-চকচকে সুন্দর পিচ ঢালা রাস্তা, কিন্তু আসলে ভেতরে ফাঁকা। বৃষ্টির জলে প্রতিদিনই ধুয়ে যাচ্ছে রাস্তার ধারের মাটি, সে সব জায়গায় অল্প অল্প করে ভেঙে পড়ছে পিচের চাদর। তবে সবচাইতে ভয়ের যে জায়গায় মাটি ধুয়ে গেলেও ভেসে আছে পিচের চাদর। এর ফলে যখন তখন ঘটে যেতে পারে বড়সড় দূর্ঘটনা। সেই অর্থে বর্ষা শুরুর আগেই সদ্য তৈরী রাস্তার এই হাল দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন কাজের মান নিয়েও। এছাড়াও এই মহাসড়কের বেশ কিছু জায়গায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে গর্ত। বৃষ্টির কারনে সে সব গর্ত জলে ভরে আছে, ফলে গাড়ি চালকেরা বুঝে উঠতে পারছেন না কোন গর্ত কত বড়! গর্তে পড়ে প্রতিদিনই ভাঙছে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। ক্রেন দিয়ে না সরানো বা ঠিক না করা পর্যন্ত সেভাবেই পরে থাকছে গাড়ি রাস্তার উপর। এর ফলে আবার সৃষ্টি হচ্ছে বিশাল যানযটের, সমস্যায় পড়ছেন নিত্য যাত্রীরা। তবে ছাতা মাথায় করেই যানযট ছাড়াতে তৎপর হতে দেখা মিলছে রাজ্য পুলিশকে।


একদিকে করোনা অন্যদিকে অনবরত বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। দোকান সাজিয়ে বসে থাকলেও মিলছে না ক্রেতার দেখা। করোনা আতংক কাটিয়ে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনপদের ব্যবসায়ীদের কিছুটা ঘুরে দাড়াঁবার চেষ্টা ব্যর্থ করতে যেন উঠে পড়ে লেগেছে প্রকৃতি।


এদিকে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি কম হলেও এবার লানিনার কারনে কিন্তু ডুয়ার্সেও স্বাভাবিকের চাইতে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাই রয়েছে।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
HS02


আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK
Jishu da