কারো প্রাণ গেল কেউ অসুস্থ হল। প্রতিবাদ হল না

সহ সম্পাদক ঝিলাম দেব Nov 01, 2019 - Friday ডুয়ার্স 702


কালি পুজোর আগের দিন রাত থেকেই প্রতিবারের মতো এবছরও শুরু হয় অতিউৎসাহীদের শব্দবাজির উৎসব। পরদিন অর্থাৎ কালিপূজার দিন এই অতিমাত্রার বিকট শব্দপ্রেমীদের শব্দবাজির উল্লাস জানো আরও বেড়ে যায়। কিছু কিছু জায়গায় সন্ধ্যা গড়াতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে কান ফাটানো আওয়াজে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে। একদিকে লাউড স্পিকারে বেনারসি শাড়ি না দিলে আত্মহত্যার ব্ল্যাকমেইলের গান অন্যদিকে শব্দবাজির আওয়াজ ডেসিমেলের মাত্রা ছাড়ালেও মানুষ তা অভ্যাসবশেই সহ্য করে নেয়। কিন্তু এই অতিমাত্রার শব্দ দানব থাবা বসায় নিরীহ পশুপাখিদের ওপর। বিশেষ করে তাদের করুণ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায় বাড়িতে পোষা কুকুর বেড়ালদের দেখে। দুষ্টুমিতে ভরপুর প্রাণবন্ত কুকুরটা হটাৎ সন্ধ্যা থেকে শব্দবাজি শুরু হতেই কেমন যেন পালটে যায়। কান পেছনে নিয়ে কখনও গিয়ে ঢোকে খাটের নিচে আবার কখনও সোফার তলায়। হাজার ডাকাডাকি, প্রিয় খাবার খেতে দিলেও আসতে চায়না বাইরে। আবার কেউ সেঁটে বসে থাকে মনিবের সাথে। বন্ধ করে দেয় স্বাভাবিক হিসু পটিও। অতিরিক্ত শব্দ সহ্য করতে না পেরে প্রিয় মানুষ গুলোর সব চেষ্টার পরও কাঁপতে কাঁপতে পৃথিবী ছাড়ে সারমেয়।



হ্যাঁ বুধবার অব্দি শব্দবাজির চোটে এমনই দৃশ্যের সম্মুখীন হতে হল পশুপ্রেমীদের। এ ক'দিন রাত জেগে ঠাকুর দেখতে না বেড়িয়ে হাতে ঝুনঝুনি নয়তো ইউটিউবে ডগ ফ্রেন্ডলি মিউজিক চালিয়ে কাটলো রাতভর পশুপ্রেমীদের। রাস্তার কুকুরদের পরিনতি হল আরও চরম। বোমের আওয়াজে কুকুর পালাবে এই মজা দেখতে কুকুরের পেছনে ছোড়া হল বোম। নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলো কেউ, আবার কেউ আহত হয়ে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে করছে মৃত্যুর অপেক্ষা। ডুয়ার্সের পশুপ্রেমী সংগঠন এনিমেল লাভার্সের সদস্যরা জানায়, গত কদিন ধরে সমানে ফোন আসছিল রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পরে আছে কুকুর। বুঝতে পারছিলাম অতিমাত্রার শব্দবাজি ফাটার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে কুকুর গুলো। আবার কোথাও গিয়ে পাওয়া গেল আহত হয়েছে কুকুর, ছাগল, গরু বোমের আঘাতে। যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি চিকিৎসা করে সুস্থ করার, ছুটি থাকার কারনে ডাক্তার না পেয়ে বেঘোরে প্রাণ গেছে অনেকগুলো কুকুরের।



তবে এটাও অনস্বীকার্য ডুয়ার্স জুড়ে পুলিশের হটাৎ হানায় কোণঠাসা হয়েছিল শব্দবাজি বিক্রেতারা। কালি পুজোর আগের থেকেই পুলিশ আটক করেছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ শব্দবাজি। কিন্তু তারপরও কিছু দোকান মালিক তারাবাতি আর তুবড়ি সামনে সাজালেও ভেতরে ভেতরে করেছে বিভিন্ন শব্দবাজির ব্যবসা। অনেকেই বলছেন তাদেরই বা দোষ কী? শব্দবাজি যে পাব্লিক ডিমান্ড! মানুষ যদি সচেতন না হয় তবে কি সম্ভব পরিবর্তনের!

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMJOK

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK