লক্ষ্মী পুজায় মাতছে ডুয়ার্স

সহ সম্পাদক ঝিলাম দেব Oct 13, 2019 - Sunday ডুয়ার্স 397


দোলপূর্ণিমা নিশীথে নির্মল আকাশ।


মন্দ মন্দ বহিতেছে মলয় বাতাস।।


লক্ষ্মীদেবী বামে করি বসি নারায়ণ।


কহিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন।।




বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গো উপমহাদেশের মানুষ মেতে উঠেছে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনায়। অনেকেই মজা করে বলেন, লক্ষ্মী ঠাকুর মায়ের সাথে এলেও কৈলাশে ফিরে যাবার সময় ট্রেনের টিকেট পায় না তাই ক'দিন পরেই যান তিনি। এছাড়াও ঠাকুমা-দিদিমাদের মুখে শোনা যায়, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে সারারাত জেগে থাকার বিধি আছে ও এই পূজার সাথে কৃষকদের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তারা সারারাত জেগে এই দিন শস্য পাহাড়া দেয়। আবার অনেকে মনে করেন, লক্ষ্মী দেবী চঞ্চলা তাই সারারাত জেগে তাকে পাহাড়া দিতে হয়, যাতে তিনি পালিয়ে না যান। তবে এও বলা হয় মা লক্ষ্মী অল্পেই খুশী হন। তাই এই পূজায় খুব একটা ঝক্কি পোহাতে হয় না। যে যার সাধ্যমত পূজা করেন।

সে যাই হোক ধন সম্পদের দেবীর আরাধনার আয়োজনে গিন্নিদের ব্যস্ততা উঠেছে চরমে। সারা ঘর ময় আলপনা দিয়ে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হয়েছে নাড়ু, মুরকি, ছিন্ননি প্রসাদ। অবশ্য এখন বাজারের দোকানগুলোতেও মিলছে বিভিন্ন ধরনের তৈরী নাড়ু। ফলে অনেকটাই সুবিধা হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা রোজগেরে গিন্নিদের পক্ষে। রাত জেগে কষ্ট করে নাড়ু না বানালেও অল্প টাকা খরচ করে সহজেই মিলছে নারকেল ও তিলের নাড়ু।

লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষ্যে এই ক'দিন ডুয়ার্সে আরও জমে উঠেছিল বাজার। তবে বিশেষ করে ভিড় চোখে পড়ছিল বসন-কোসন ও দশকর্মার দোকানে। ব্যবসায়ীদের মতে, দূর্গা পূজার আগে এনআরসি ও বৃষ্টির আতঙ্কের ফলে তেমন জমছিল না বাজার। তবে এখন অনেকটাই কেটে গেছে এইসব আতঙ্ক ফলে এবার আরও বেশি করে জমে উঠেছে লক্ষ্মী পুজোর বাজার।



অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় যেমন শোনা যায় বিভিন্ন ধরনের পুজো বিখ্যাত, তেমনই ডুয়ার্সের দুরামারীর লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন এই ক্ষেত্রে এক বিশেষ জায়গা দখল করে। দুর্গাপূজা কালীপূজাতেও তেমন জৌলুস দেখা যায়না দুরামারীতে, তবে লক্ষ্মীপুজো যে এমন ঘটা করে হতে পারে তা না দেখলে অনেকেরই বিশ্বাস হবে না। অনেক বড় বড় দুর্গা পূজার আয়োজনকেও পিছে ফেলে দেয় এই এলাকার লক্ষ্মীপুজো। প্রায় প্রতিটা পাড়ায় বিশাল মন্ডপ করে চোখ ধাঁধানো আলোর রোশনাই আর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সার্বজনীনভাবে হয় এখানে লক্ষ্মীপুজো। কোন পাড়ার পুজো শ্রেষ্ঠ হবে এই নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। পুজোর উদ্বোধন করতে নিয়ে আসা হয় বাংলার বিভিন্ন তারকাদের। তিন দিন ধরে চলে এক বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে শুধুমাত্র দুরামারীর লক্ষ্মী পুজো দেখতে।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
HS02

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
HS02
PMBJK DHUPGURI