পরকীয়া সম্পর্কের ঘাঁটি হয়েছে ভুটান পাহাড়! লিপ্ত হচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারাও

নিউজ ডেস্ক Sep 05, 2019 - Thursday ডুয়ার্স 902


প্রেমিক-প্রেমিকা হোক বা টাকা দিয়ে ভাড়া করে বান্ধবী নিয়ে যাওয়া সৌখিন ব্যক্তি প্রত্যেকেরই পছন্দের জায়গা এখন ভুটান পাহাড়। যেখানে নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নিরাপদে লোকচক্ষুর আড়ালে লিপ্ত হওয়া যায় শারীরিক সম্পর্কে। দেখার কেউ নেই, ধরারও কেউ নেই। হোটেলে ঘর ভাড়া করতে প্রয়োজন হয় না কোন ফটো আইডেন্টিটি কার্ডেরও। সামান্য টাকাতে সহজেই পাওয়া যায় রুম। ক্রেতাদের পরিষেবা দিতে সদাই প্রস্তুত হোটেল মালিক থেকে শুরু করে কর্মচারীরা। আতিথেয়তায় কোন খামতি রাখেনা এরা। যখন তখন পুলিশ এসেও হানা দেয়না এই সব হোটেলে। বান্ধবী যদি ভারত থেকে নাও নিয়ে যাওয়া হয়, তাতেও কোন সমস্যা নেই। অল্প টাকা খরচ করলেই সহজেই ভুটানি বান্ধবী হাজির হয়ে যায় পরিষেবা দিতে। এই ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। তবে অনেক সময় হোটেলের ঘর গুলো তেমন পরিস্কার পাওয়া যায় না এই যা।



ডুয়ার্সের বিভিন্ন গ্রাম ও বিশেষ করে শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের থেকে গাড়ি ভাড়া করে সোজা বানারহাট-চামূর্চি হয়ে পৌঁছানো যায় সামসি ভুটানে। দিনের বেলায় সেখানে সব সময় পাওয়া যায় হোটেলের রুম। ইচ্ছে করলে রাতেও থাকা যেতে পারে, সে ক্ষেত্রেও কোন সমস্যা নেই। যদি হোটেল পূর্বপরিচিত না থাকে তবে ভাড়া করা গাড়ির ড্রাইভার নিজেই ঠিক জায়গা মত পৌঁছে দেন। যাদের সামর্থ্য আছে, অভ্যস্ত হয়েছে এই সবে তারা অবশ্য নিজেদের গাড়ি নিয়েই যায়।



জানা যায়, আঠারো বছরের গন্ডি না পার হওয়া স্কুল পড়ুয়া বা কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরাও হামেশাই যাচ্ছে ভুটানের এই সব হোটেলে। বাড়িতে কয়েক ঘন্টার জন্য কিছু একটা অজুহাত বা ভুগলের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের নামে অপরিপক্ক প্রেমিক প্রেমিকা সোজা পাড়ি দিচ্ছে ভুটান, রুম ভাড়া নিচ্ছে কয়েক ঘন্টার জন্য। রুম ভাড়াও মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে, ঘণ্টা কয়েকের জন্য ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর এই রুটের রাস্তা যথেষ্ট মসৃণ, তাই গাড়ির স্পিডোমিটার থাকে তুঙ্গে যাতায়াতের সময় লাগে কম। বাকি সময়টা নিজেদের জন্য।

অন্যদিকে এই বিষয়ে তালিম দিয়ে ছোটদের অকালপক্ক করছে পাড়াতুতো দাদারা।



এদিকে বেশির ভাগ সময় চামূর্চির এই বর্ডারে কোন গার্ড থাকেনা বললেই চলে। কখনও থাকলেও তারা তেমন ভাবে জিজ্ঞাসাবাদও করে না। একই ভাবে ভুটান গেটেও দেখার কেউ থাকে না, ড্রাইভারের সাথে কথা বলে তারাও ছেড়ে দেয়। অনেক সময় গেটে জমা রাখতে হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, যা আবার ফেরত যাবার পথে দিয়ে দেয়। তাছাড়া প্রতিদিনই প্রচুর পরিমানে টুরিস্টরাও ঘুরতে যায় সামসি ভুটান। আর যেহেতু টুরিস্টদের ওপরে অনেকটাই নির্ভর করে এই এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাই তেমন কড়াকড়ি চেকিং করে না ভুটান পুলিশ।





নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধূপগুড়ির এক গাড়ি চালক বলেন, যেহেতু ভুটানে পেট্রোল ডিজেলের দাম কম তাই অল্প টাকাতেই যে কোন ড্রাইভার রাজি হয়ে যায় ভুটান যেতে। আর এই ক্ষেত্রে তেমন কোন ঝুঁকিও নেই। অনেক সময় বর্ডারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে ছেড়ে দেয়। আর প্যাসেঞ্জারদেরও শুধুমাত্র কোথা থেকে আসছেন সেটাই জিজ্ঞেস করে বর্ডারে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় কাস্টমারের ডিমান্ড অনুযায়ী একটু ফাঁকা জায়গা থেকে সাধারণত মেয়ে বা মহিলাদের পিকআপ করতে হয়।



অন্য এক ড্রাইভার দীপক বর্মন(পরিবর্তিত নাম) বলেন, দেখুন জঙ্গি বা ডাকাতদের তো গাড়িতে তুলিনা, সাধারণ প্যাসেঞ্জার গাড়ি ভাড়া করে কথায় যাবে আর সেখানে গিয়ে কি করবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আর আমাদের এখানে যে সমস্ত হোটেল বা ধাবাগুলোতে কলগার্লদের নিয়ে যাওয়া যায়, সে সমস্ত জায়গায় যখন তখন রেট করে পুলিশ। সেক্ষেত্রে গাড়ির ড্রাইভারদেরও সমস্যায় পরতে হয়। কিন্তু ভুটানে তো সে ভয় নেই, তাই ভুটানই প্রত্যেকের প্রধান পছন্দ।



কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক দের কথা ছেড়ে দিলেও স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা যেভাবে স্বাধীনতার অপব্যবহার করে এই পথে পা বাড়াচ্ছে তা সত্যিই দুশ্চিন্তার অভিভাবকদের জন্য। অনেকেই মনে করছেন এই বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত, আরও বেশি খেয়াল রাখা উচিত নিজেদের সন্তানদের।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
HS01

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
Jishu da
HS01