প্রেমে প্রতারণা! ধর্না বিয়েই কি সমাধান

সহ সম্পাদক ঝিলাম দেব Sep 20, 2020 - Sunday নিউজ রুম 152


যতই কর বাহানা,


যতই বল না না


বিয়ের ফুল ফুঁটলেই


বাজবে বিয়ের বাজনা।


কুমার শানু কবে করে গেছিলো এই গান। ডুয়ার্সে বিপাকে পড়া যুবক-যুবতীরা ধর্না দিয়েই বিয়ের ফুল ফুটিয়ে তুলছে রাতারাতি। ধূপগুড়ির সেই প্রথম ধর্না বিবাহ অনন্ত-লিপিকার, যা তোলপাড় হয়েছিল সর্বত্র। দেশের বড় বড় মিডিয়া হাউজগুলিও সেই খবর তুলে ধরেছিল গোটা বিশ্বের কাছে। প্রতিদিন মানুষ অপেক্ষা করে থাকতো কি হবে শেষমেশ তা জানতে। শেষে রোমান্টিক সিনেমার মতই শুভ পরিনয় হয় তাদের প্রেমের। অনেক সিনেমাকে হার মানিয়ে দেওয়া এই কাহিনী স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়ে পড়ে। এতেই যেন আরও উদ্বুদ্ধ হয়, আর নিজের প্রেমকে আদায় করে নিতে ধর্নায় বসার ট্রোল শুরু হয়।

বিশিষ্টজনেরা অনেকেই বলছেন, আদতে এই বিয়ের ভিত কতটা শক্ত? একটা বিয়ে মানে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা সম্মান সব কিছু জড়িয়ে থাকে। সেখানে ধর্না করে এইভাবে জোর করে বিয়ে করাটা কতটা ক্ষতিকর, তা বোধহয় এরা ভাবছে না। জোর করে কি কোনো সম্পর্ক টেকে? যেখানে ভারতবর্ষে এখন পরকীয়া অপরাধ নয়, সেখানে এই বিয়ে কি এইসব পরকীয়া সম্পর্কের আরও জন্ম দেবে এমনটাই নয়? প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই। এমনও বলা হচ্ছে, এই ধর্না করে বিয়ে করা কিন্তু সমাজের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। আর তার থেকেও বেশি ক্ষতিকর যারা এই ধর্নায় বসা যুবক-যুবতীকে সাহায্য করছেন। এর পরিনতি হতে চলেছে খুবই ভয়ঙ্কর।

দিন যাচ্ছে আর বেড়েই চলছে এই ধর্নায় বসার প্রকোপ। কোথাও কোথাও আবার ধর্নায় বসা যুবক-যুবতীকে মারও খেতে হচ্ছে দুমাদুম। কাছের মানুষটিকে পেতে রীতিমতো যেকোনো রাজনৈতিক ধর্না সভার মত হাতে প্ল্যাকার্ড লিখে পুরোনো ছবি ছাপিয়ে বসছে অপরজনের বাড়ির সামনে। আর এই খবর চাউর হতেই মহামারীর ভয়কে পেছনে ফেলে ভিড় জমছে ধর্না দেখতে। ধর্নারত যুবক-যুবতীর পাশে দাঁড়াচ্ছে অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েরা। ফলে আরও অক্সিজেন মিলছে, জোড়ালো হচ্ছে দাবী। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মিলছে সাফল্য, বাধ্য হয়েই শেষমেশ অপরজনের পরিবার মন থেকে না চাইলেও পরিস্থিতির চাপে দিতে হচ্ছে বিয়ে।

বিভিন্ন মুনি জনের ভিন্ন ভিন্ন মত হলেও মোটামুটি আট প্রকার বিয়ের কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে এমনই বলা হচ্ছে। অনেকে এই ধর্না করে বিয়ে করাকে রাক্ষস বিবাহের সাথে তুলনা করলেও, এমনও বলা হচ্ছে এই বিয়ে গান্ধর্ব মতে বিবাহ। কালিদাসের লেখা অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকে আমরা রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার মালাবদল করে বিয়েকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ বলে পড়ে এসেছি। বলা হয় যে বিয়েতে বর-কনের বাবা মায়ের আশীর্বাদ না নিয়েই নিজেরাই প্রেমের সম্পর্কের পরিনয় দিতে মালা বদল করে বিয়ে করে সেটা গান্ধর্ব মতে বিয়ে।

আর যেখানে বিয়েতে রাজি না থাকলেও যেকোনো উপায়ে লোকজনের সাহায্য নিয়ে জোর করে রাজি করিয়ে ব্রাহ্মণ ডেকে বিয়ে করাকে রাক্ষস মতের বিয়ে বলা হয়।

উকিল সঞ্জয় সরকার বলেন, এভাবে ধর্না করে বিয়ে কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। তবে কোনো মেয়ে যদি কারো বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে করেনি এমন অভিযোগ করে তা কিন্তু নন বাইলাবল অফেন্স অর্থাৎ অ্যারেস্ট হতেই হবে। তবে অ্যারেস্ট হওয়া মানেই কিন্তু সে দোষী সাব্যস্ত নয়। একই ভাবে কোনো ছেলেও কিন্তু তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে পরে বিয়ে করতে চাইছে না, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এমন অভিযোগ করতে পারে।

পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠে আসছে কেন তারা এই ধর্নার পথে যাচ্ছেন? প্রেমে প্রতারণার শিকার হয়েই ছেলে বা মেয়ে উভয়ই হয়তো বাধ্য হয়েই ধর্নার পথ বেছে নিচ্ছে। কিন্তু এই জোর করে বিয়ে করার ফল কি হতে পারে ভাবুন তো!

পুলিশ সূত্রে বলা হয়, এইসব ক্ষেত্রে কিন্তু যে পক্ষ থেকেই অভিযোগ আসুক, তা নিয়ে আইনে যা বলা আছে সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
HS02


আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMBJK DHUPGURI
PMJOK