বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষার বাঁধে ভাঙন, হুমকির মুখে শতশত ঘরবাড়ি

নিলয় ধর Aug 31, 2019 - Saturday বাংলাদেশ 481


বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব দক্ষিণ প্রান্তে রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা ইতো মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেতু হুমকির কবলে পড়তে পারে অনুমান করা যায়। এই দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে রয়েছে তারা ভাঙণের কবলে পড়েছে। নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে ও তীব্র ¯স্রোতের কারনে এই ভাঙন শুরু হয়েছে । তবে ভাঙন রোধে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি সেতু কর্তৃপক্ষ।



দেখা যায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ি এলাকায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে কাটা তারের বেড়া দিয়ে সীমানা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বেড়ার ভেতরে সেতু রক্ষা বাঁধে বৃহস্পতিবার থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে দেখা যায়। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেই ভাঙণ অব্যাহত রয়েছে । নদী গর্বে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা । কিন্তু শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে ভাঙণ রোধে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



এই বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ বঙ্গবন্ধু সেতুর (৬ কিলোমিটার) এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অবাধে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় ১টি প্রভাবশালী মহল। এতে করে বঙ্গবন্ধু সেতুর কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলে বালু উত্তোলনের কাজ। বালু উত্তোলনের কারনে যমুনা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের শতশত বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ।



এ ছাড়া অন্য দিকে, যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশে বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তর পাশে আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল চকদার ও নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিন সরকারের নেতৃত্বে চলে অবাধ বালু উত্তোলন করে আসছে। কিন্তু স্থানীয় (প্রশাসন ও বিবিএ)-এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকার দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করে আসছে । তাই আমাদের এই অবস্থা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু।



এই বিষয়ে এলাকাবাসী জানান , শুকনা মৌসুমে যখন নদীতে পানি কম থাকে, তখন যদি বিবিএ কাজ করতো তাহলে এই ভাঙনের মুখে পড়তো না । শতশত মানুষ বাড়ি ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তো না।এর জন্য ওরাই দায়ি। এই দিকে এই বিষয়ে গোহালিয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার বলেন নদী থেকে ১ বছর যাবত বালু উত্তোলন হয় না। বিবিএ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এই ভাঙন রোধ করা সম্ভব।



বাংলাদেশের সেতু কর্তৃপক্ষের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (তোফাজ্জল হোসেন) জানান, ইতিমধ্যেই বাঁধের ১০০মিটার এলাকা নদীতে ধ্বসে গেছে। এতে করে ৪২ মিটার গভীরতার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন এই ভাঙণ এলাকা বিবিএর সীমানার মধ্যে। কিন্তু মূল গাইডে ভাঙণ হয়নি বলে জানান।



এই বিষয়ে কালিহাতীর ভারপ্রাপ্ত ( ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) শাহরিয়ার রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে বিবিএ ও (পানি উন্নয়ন বোর্ড) কাজ শুরু করেছে।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMJOK

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK